রূপ, লাবণ্য ও তারুণ্যকে ধরে রাখতে যা করণীয়

এই পৃথিবীতে কম বেশি সবাই সৌন্দর্যের পূজারী। তবে ফর্সা মানেই যে সুন্দর তা কিন্তু নয়। একজন শ্যাম বা কৃষ্ণ বর্ণের মানুষ ও কিন্তু তার সৌন্দর্য প্রকাশ করতে পারেন। একজন মানুষের ত্বক যদি হয় সুস্থ, মসৃণ, কোমল ও তারুণ্য তাহলে সেই মানুষটাকে কিন্তু সৌন্দর্যের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

এ যুগের সব মানুষই এখন বলতে গেলে রূপচর্চা করে।কিন্তু রূপচর্চা করার পরেও অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে সৌন্দর্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে পরে। তাই সৌন্দর্য ও তারুণ্য ধরে রাখতে কিভাবে সঠিক নিয়ম ও সুস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস মেনে চলবেন তা জেনে নেয়া যাক –

দৈনন্দিন জীবনযাপনে যা যা করবেন –

১. ভোরে ঘুম থেকে উঠার অভ্যাস করুন। সকালের আবহাওয়া মন ও শরীরকে স্বাস্থ্যকর ও তাজা রাখে।

২. প্রতিদিন প্রয়োজন মতো পানি খাবেন এবং বিশেষ করে সকালে ঘুম থেকে উঠে খালিপেটে আধা লিটার পানি পান করার অভ্যাস করুন এবং এতে আপনার ত্বকের লাবণ্যতা বেড়ে যাবে।

৩. যাদের সারাদিন বসে কাজ করার অভ্যাস আছে তারা একটু সময় নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার অভ্যাস করুন এতে পেটে ওভাবে মেদ জমবে না।

৪. নিয়মিত সকালে ব্যায়াম করুন অথবা ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘন্টা পর্যন্ত ঘাম ঝরিয়ে হাঁটার অভ্যাস করুন।

৫. প্রয়োজন ছাড়া সাইবার বা হ্যান্ডসেট ব্যবহার করবেন না এতে মাথার উপর অনেক খারাপ প্রভাব পড়ে এবং চোখের সমস্যা হয়ে যায়।

৬. নিয়মিত চুল ও ত্বকের যত্ন নিন।

৭. শত ব্যস্ততার মাঝেও নিজের জন্য সময় বের করুন। এতে আপনার সৌন্দর্যের চর্চা বাড়বে।

৮. রোদে বের হলে ছাতা এবং সান্সস্ক্রিন পাওডার বা ক্রীম ব্যাবহার করুন।

সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে যেসব খাবার বেছে নিবেনঃ

১. নিয়মিত ২-২.৫ লিটার পানি পান করুন। এতে আপনার ত্বক উজ্জ্বল ও সুন্দর থাকবে।

২. দাতের এবং ত্বকের চর্চায় এন্টিঅক্সিডেন্ট যুক্ত খাবার ও ভিটামিন সি যুক্ত খাবার যেমন আমলকী, কামরাঙ্গা, মাল্টা, লেবুর রস ইত্যাদি বেছে নিন।

৩. হালকা কুসুম গরম দুধে কাচা হলুদ মিশিয়ে খেলে আপনার ত্বক সুন্দর ও উজ্জ্বল হবে।

৪. প্রতিদিন সকালে বাদাম খেলে আপনার মুখে আলাদা তৈলাক্ত প্রলেপ পড়বে যা আপনার লাবণ্যতা এনে দিবে।

৫. যে ঋতু চলবে সে ঋতুর শাক-সবজী খাবেন এতে আপনার ত্বকের ময়শ্চারাইজ হবে, হরমোন তৈরি হবে এবং ব্রোনের দাগ থাকলে সেরে যাবে।

৬. প্রতিদিন মধু খাওয়ার চেষ্টা করুন।

৭. নিয়মিত টক দই খাবেন। এতে ত্বক সুন্দর ও মসৃন হবে।

৮. যেকোন ফলের রস পানির সাথে মিশিয়ে খাওয়ার অভ্যাস করুন। এতে পানি খুব সহজেই আপনার শরীরে শোষণ হবে।

৯. বিটা ক্যারোটিন যুক্ত খাবার যেমন – মিষ্টি কুমড়া, গাজর, রঙিন শাক-সব্জী খাবেন। এতে ত্বক উজ্জ্বল হবে ও ত্বকের ক্ষতিকর কোষ ধ্বংস হবে।

১০. সৌন্দর্য ধরে রাখতে নিয়মিত টমেটো, শশা ও গাজরের সালাদ খাবেন।

যেসব খাবার থেকে বিরত থাকবেন-

১. দুধ চা। কারণ দুধ এবং চা একসাথে মিশিয়ে জ্বাল দিলে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় চা তার গুনাগুন হারিয়ে ফেলে ফলে ত্বক নষ্ট হয়।

২. অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। কারণ এতে মুখে ব্রোনের সৃষ্টি করে।

৩. অতিরিক্ত মশলা ও বাইরের খাবার পরিহার করুন।

৪. কার্বোনেটেড পানীয় পরিহার করুন কারন এতে ওজন বেড়ে জায় শরীর এবং মুখ ফুলে যায়।

৫. চায়ে অতিরিক্ত চিনি খাওয়ার অভ্যাস পরিহার করুন। কারণ এটি চেহারায় দ্রুত বয়সের ছাপ তৈরি করে।

আরও পড়ুন

আমড়ার উপকারিতা

বাজারে পাওয়া যাচ্ছে দেশি ফল আমড়া। টক-মিষ্টি স্বাদের এই ফল অনেকের কাছেই প্রিয়। আকারে ছোট হলেও নানা ধরনের পুষ্টিগুণে ঠাসা আমড়া। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর, যে কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে সহজেই। আমাদের শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়ামের চাহিদা ‍পূরণ করে আমড়া। ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে দূরে থাকতেও সাহায্য করে এটি। কাঁচা আমড়ার পাশাপাশি এর আচার, মোরব্বা কিংবা চাটনি তৈরি করেও খাওয়া যায়।

আমড়ার পুষ্টিগুণ

 

প্রতি ১০০ গ্রাম আমড়ায় ১ দশমিক ১ গ্রাম প্রোটিন, ১৫ গ্রাম শ্বেতসার, শূন্য দশমিক ১০ গ্রাম স্নেহ জাতীয় পদার্থ এবং ৮০০ মাইক্রোগ্রাম ক্যারোটিন আছে। এছাড়াও আছে ০.২৮ মিলিগ্রাম থায়ামিন, ০.০৪ মিলিগ্রাম রিবোফ্লাভিন, ৯২ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি, ৫৫ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম এবং ৩.৯ মিলিগ্রাম লৌহ। আমড়ার খাদ্যশক্তি ৬৬ কিলোক্যালোরি। খনিজ পদার্থ বা মিনারেলসের পরিমাণ ০.৬ গ্রাম। এই ফলে প্রায় ৯০%-ই পানি, ৪-৫% কার্বোহাইড্রেট ও সামান্য প্রোটিন থাকে। জেনে নিন আমড়া কী উপকার করে-

 

ক্যালসিয়ামের ঘাটতি দূর করে

আমাদের সুস্থতার জন্য ক্যালসিয়ামের প্রয়োজনীয়তা অনেক। শরীরে ক্যালসিয়ামের অভাব দেখা দিলে তা হাড়ের বিভিন্ন সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, পাশাপাশি দাঁতের সমস্যা, মাংস পেশীর খিঁচুনিসহ অনেক রোগের কারণ হতে পারে। নিয়মিত আমড়া খেলে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি অনেকটাই পূরণ হয়।

ত্বকের সুরক্ষায় কাজ করে

সুস্থ ও সুন্দর ত্বক সবারই প্রত্যাশা। তবে ত্বকের কোনো না কোনো সমস্যা লেগেই থাকে অনেকের। বিশেষ করে ব্রণের সমস্যা থাকে প্রায় সবারই। ত্বক থেকে ব্রণ দূর করতে এবং উজ্জ্বলতা বাড়াতে কাজ করে আমড়া। এই ফলে আছে প্রচুর ভিটামিন সি। এই ভিটামিন ত্বক ভেতর থেকে উজ্জ্বল করে। পাশাপাশি দূর করে ব্রণও।

রক্তস্বল্পতা দূর করে

রক্তস্বল্পতা এড়াতে কিংবা এই সমস্যা দূর করতে নিয়মিত আমড়া খান। কারণ আমড়ায় আছে প্রচুর আয়রন যা রক্তস্বল্পতা রোধে সাহায্য করে। এটি আমাদের রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ঠিক রাখতেও সাহায্য করে।

হজমের সমস্যা দূর করে

বদহজম ও কোষ্ঠকাঠিন্য নিয়ে অনেকে সমস্যায় ভুগে থাকেন। নিয়মিত আমড়া খেলে এই সমস্যা থেকে মুক্ত থাকা যায়। এই ফলে আছে বিভিন্ন দ্রবণীয় ফাইবার, এটি পাকস্থলীর কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


seven + 3 =